নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর ডিপো ব্যবস্থাপক মোঃ আশরাফুল আলমকে ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদে থাকা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে ঢাকা ট্রাক ডিপো, নারায়নগঞ্জ, জোয়ারশাহারা ও
বর্তমানে বিআরটিসির কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা তেজগাঁও এ দায়িত্ব পালন করছেন। মোঃ আশরাফুল আলম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সুসম্পর্কের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা সরকারি নথি এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা তেজগাঁও এ দ্বায়িত্বে রাখার কারনে তাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা ও সমালোচনা। একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ ডিপো ও ইউনিটের দ্বায়িত্বের ক্ষেত্রে সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে না, ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া।
অভিযোগ রয়েছে, কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে
মোঃ আশরাফুল আলম একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সমালোচকদের মতে, এসব দ্বায়িত্ব দেওয়ার পেছনে শুধুই প্রশাসনিক বিবেচনা কাজ করেছে, নাকি রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব ছিল—তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। তবে তার ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্রের বিস্তারিত প্রকাশ না করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
বিআরটিসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা এসব বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে মোঃ আশরাফুল আলম নিজেকে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কুমিল্লার এমপি বাহারের চাচাতো ভাই হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। সে সময় তিনি এমপি বাহারের চাচাতো ভাই পরিচয়ে তিনি ভাল ভাল ডিপো গুলোর দ্বায়িত্ব পেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে মোঃ আশরাফুল আলমের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো কর্মকর্তা সম্পর্কে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা গুজব বা অভিযোগের পর্যায়ে ফেলে না রেখে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের মুখোমুখি ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করাও গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
ফলে বিআরটিসিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখন কেবল ব্যক্তি-নির্ভর বিতর্ক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্নকেও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন।