রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিআইডির রায়হানের ‘মহাপাপ’ ঢাকতে ক্র্যাব নেতাদের দৌড়ঝাঁপ! : নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া রায়হান খান এনসিপি সমর্থিত এনডিইএ গঠন, আহ্বায়ক জামাল, সদস্য সচিব ফয়সাল ও সাংগঠনিক আলমগীর সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমে এক কর্মকর্তার ‘ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য’ : রিজার্ভ চুরির ফাইল জিম্মি ও শত কোটি টাকা পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দোয়া চাইলেন সাইফুল ইসলাম জহির দুর্নীতির ভয়ংকর রুপে রাজউক পরিচালক জাকারিয়া : রাজউকে দুর্নীতির শীর্ষে তিনি: রাজউক প্রশাসন নীরব কেন তারুণ্যের নেতৃত্ব গড়বো আগামীর ভবিষ্যৎ—মোঃ ইকবাল হোসাইন বাবলু কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি আপেল মাহমুদ : শোধরানোর সুযোগ পেয়েও বারবার জড়িয়েছেন নানা অপরাধ ও বিতর্কে বিআরটিসির চেয়ারম্যানের বদলী বাণিজ্য তুঙ্গে : বিআরটিসিতে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে ফ্যাসিবাদের দোসরা : টাকার বিনিময়ে পাচ্ছেন ভালো পোষ্টিং গোপালগঞ্জে নানা অপরাধসহ ককটেল নিক্ষেপের মুল হোতা যুবলীগ সভাপতি মাসুদ রানা ময়মনসিংহের নান্দাইলে তথাকথিত ভণ্ডপীর মিল্লাত রাব্বিকে ঘিরে ভয়াবহ অভিযোগ : তদন্তের দাবি

সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমে এক কর্মকর্তার ‘ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য’ : রিজার্ভ চুরির ফাইল জিম্মি ও শত কোটি টাকা পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ৪৭ Time View

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অত্যন্ত সংবেদনশীল শাখা ‘ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট’ যেন এখন এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

এই ইউনিটের শীর্ষ পদে বসে আছেন এডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান। দীর্ঘ আট বছর একই ইউনিটে দায়িত্ব পালনের পর, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুবাদে এক রহস্যময় প্রভাবে তিনি আবারও চেনা দপ্তরে ফিরে এসেছেন। আর এসেই তদন্ত বাণিজ্য, একক প্রভাব বিস্তার ও সৎ কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করার এক নজিরবিহীন পরিবেশ তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তার বিরুদ্ধে খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিদেশে শত কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ চুরি মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এই রায়হান উদ্দিন খান। কিন্তু দীর্ঘ নয় বছর মামলাটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেও তিনি দেশীয় মূল অপরাধী ও আন্তর্জাতিক হ্যাকারদের আড়াল করার এক সুনিপুণ কৌশল অবলম্বন করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই মহাচুরির তদন্তকে ঢাল বানিয়ে তিনি নিজেই বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন।
রিজার্ভ চুরির তদন্তে ‘মহাগাফিলতি’: নেপথ্যে কাকে বাঁচানোর চেষ্টা?

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্তে রায়হান উদ্দিন খানের ভূমিকা শুরু থেকেই ছিল চরম বিতর্কিত ও রহস্যে ঘেরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ‘ডিজিটাল চেইন-অফ-কাস্টডি’ বজায় রাখেননি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) এবং বিএই সিস্টেমস বা ক্যাসপারস্কির মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যখন এই সাইবার হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার ‘লাজারাস গ্রুপ’কে দায়ী করেছে, তখন রায়হান উদ্দিন খান সেই অকাট্য ডিজিটাল এভিডেন্সগুলোর কোনো আইনি ভিত্তি বা কারিগরি লগ আদালতে উপস্থাপন করেননি।

সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের বিষয় হলো, এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বা সন্দেহভাজন কারোরই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেননি। উল্টো রাকেশ আস্তানা নামের এক ভারতীয় প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকে এনে হ্যাক হওয়া সিস্টেম পরীক্ষা করানোর নামে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আইটি লগ ‘ডিলিট’ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়, যার কোনো দাপ্তরিক স্বাক্ষর বা লগ তিনি সংরক্ষণ করেননি। ফলে আদালতে এই তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের শেষ দিকে মামলার তৃতীয় তদন্ত কর্মকর্তা মং থোয়াই মারমা আনুষ্ঠানিকভাবে রায়হান উদ্দিনের পূর্বের তদন্তের দুর্বলতা ও ত্রুটিগুলো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান—মামলাটিতে চার্জশিট দেওয়ার মতো কোনো তথ্যপ্রমাণই অবশিষ্ট রাখা হয়নি। কিন্তু চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই সত্য তুলে ধরার কয়েকদিনের মধ্যেই অদৃশ্য ইশারায় সৎ কর্মকর্তা মং থোয়াই মারমাকে সরিয়ে মামলাটি পুনরায় রায়হানের ‘ঘনিষ্ঠ’ কর্মকর্তা ফরহাদ কবীরের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যাতে দ্রুত একটি দায়সারা চার্জশীট দিয়ে ভেতরের রাঘববোয়ালদের রক্ষা করা যায়।
“গো এমএল” চ্যানেলের তথ্য পাচার ও বিশেষ সিন্ডিকেট

অভিযোগে প্রকাশ, বাংলাদেশ ব্যাংকের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘গো এমএল’ (GoAML) সিকিউর চ্যানেলের একমাত্র এক্সেসধারী হিসেবে রায়হান উদ্দিন খান গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন ব্যাংক ও ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অতি সংবেদনশীল ও গোপন রিপোর্টগুলো তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই তিনি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মূল অপরাধীদের কাছে পাচার করে দিতেন।

এই তথ্য বাণিজ্য এবং মিডিয়া ট্রায়ালের জন্য রায়হান উদ্দিন একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কতিপয় ক্যাডার এবং কয়েকজন আজ্ঞাবহ সংবাদকর্মী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে লক্ষ্যবস্তু বানানো কোনো ব্যবসায়ী বা ই-commerce প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘পোষা সাংবাদিক’ দিয়ে মনগড়া নেতিবাচক খবর প্রকাশ করা হতো। এরপর সেই নিউজের সূত্র ধরে সিআইডি থেকে ‘ইনকোয়ারি’ বা অনুসন্ধান শুরু করতেন রায়হান। পরবর্তীতে নিজের বিশ্বস্ত টিম দিয়ে মোটা অঙ্কের এজেন্ডাভিত্তিক লেনদেনের মাধ্যমে ‘ম্যানেজড’ তদন্ত চালিয়ে আসামিদের সম্পূর্ণ দায়মুক্ত (ক্লিনচিট) করে দেওয়া হতো। তার আমলে হওয়া ফিন্যান্সিয়াল ইনকোয়ারি এবং তা থেকে হওয়া নিয়মিত মামলার সংখ্যার অনুপাত (Ratio) বিশ্লেষণ করলেই এই বিপুল অর্থ বাণিজ্যের প্রমাণ মিলবে।
পাঁচ এসপিকে অধীনস্ত রাখার দম্ভ ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারঃ

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বঞ্চিত দাবি করে পদোন্নতি বাগিয়ে নিলেও, রহস্যজনক কারণে কোনো মাঠপর্যায়ের ভালো পোস্টিংয়ে না গিয়ে বিশেষ তদবিরে তিনি আবারও সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটে জেঁকে বসেন। বর্তমানে তিনি এই ইউনিটের এডিশনাল ডিআইজি।

অথচ সিআইডির ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে পাঁচজন পুলিশ সুপারকে তার অধীনে রিপোর্ট করতে বাধ্য করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি আইজিপি এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বক্স চৌধুরীর নাম ভাঙিয়ে গোটা ইউনিটে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। যেকোনো সৎ কর্মকর্তা তার এই অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই তাকে দুর্গম এলাকায় বদলি বা বিভাগীয় মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

দুবাইতে সম্পদের পাহাড় ও পাচারের অভিযোগ
সংবেদনশীল ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মানিলন্ডারিং মামলার আসামিদের ব্ল্যাকমেইল করার মাধ্যমে রায়হান উদ্দিন খান নিজে শত শত কোটি টাকা দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির ভেতরের ও বাইরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রায়হান সাহেবের প্রশাসনিক ও আর্থিক বলয় এতটাই শক্তিশালী যে, তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক কথা বলার সাহস সহজে কেউ পায় না।

দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি সচেতন মহলেরঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া আবেদনে ভুক্তভোগী নাগরিক ও সচেতন মহল জোর দাবি জানিয়েছেন যে, সিআইডির মতো একটি সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে এমন একজন বিতর্কিত ও আর্থিক অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অবস্থান দেশের আর্থিক অপরাধ দমন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিচ্ছে।

অবিলম্বে তাকে ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট থেকে প্রত্যাহার করে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার প্রকৃত সত্য কোনোদিন আলোর মুখ দেখবে না, বরং অপরাধীদের চিরতরে সুরক্ষা দেওয়ার একটি আইনি দলিল তৈরি হবে।

এ ব্যাপারে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও রায়হান উদ্দিন খানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 agamirbangladesh24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin