
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন খান যিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে চাকরি নিয়েছেন। সে সময় তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে গড়ে তুলেছেন হাজার কোটি টাকার সম্পদ। এক সময় রাজধানীর কাপ্তান বাজারে একটি ভাতের হোটেলের মালিক থেকে এখন তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
ভুমি সহকারীর মোতাহার হোসেন খান শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতি করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তিনি তার মৃত ভাইয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও এনআইডি কার্ড জালিয়াতি (ভুয়া তৈরি করে) করে তিনি এ চাকরিতে যোগ দেন।
মোতাহার হোসেনের ৪ ভাই। তার এক ভাই মারা যায়। মৃত ওই ভাইয়ের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, এনআইডি কার্ড ব্যাবহার করে সে চাকরি নেয়। ওই সময় দুর্নীতির মাধ্যমে তাকে চাকরিটা পাইয়ে দেয় জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু। কিশোরগঞ্জে বাড়ি হওয়ার সুবাধে এ চাকরিতে ঢুকিয়ে দেন সাবেক মন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু।
মোতাহের হোসেন খানের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জের নেয়ামতপুর। মোতাহার হোসেন খানের ছোট ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ দিদার হোসেন খান। যিনি পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান হয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটিপতি হয়েছেন। বর্তমানে চেয়ারম্যান দিদার হোসেন খান পলাতক রয়েছে।
তবে গোপন সুত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান দিদার হোসেন খান তার আপন বড় ভাই ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন খানের বাসায় বর্তমানে অবস্থান করছেন এবং সেখানেই তিনি আত্নগোপনে রয়েছে।
মোতাহার হোসেন খান সারা বাংলাদেশের ভুমি অফিসার্স কল্যান সমিতির সভাপতি হওয়ার সুবাধে বদলি বানিজ্য, প্রমোশন বানিজ্য এবং চাকরি দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা।
ভুমি সহকারী মোতাহার হোসেন খানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগঃ ভুমি সহকারী মোতাহার হোসেন খান। তিনি চাকরির শুরু থেকে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান। তার আসল নাম মোতাহার হোসেন খান নন, তার ভাইয়ের নাম এবং সার্টিফিকেট ও এন আইডি কার্ড ব্যবহার করে সে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন।
রাজধানীর কাপ্তান বাজার মার্কেটে তার রয়েছে কয়েকটি দোকানের পজিশন কেনা। সেখানে রয়েছে ৭ থেকে ৮টি দোকান ঘর। রাজধানীর কাপ্তান বাজারের যোগিনগর এলাকায় রয়েছে তার বিলাস বহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি।
এছাড়াও রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় রয়েছেন একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জয়কালী মন্দিরের পার্শে রয়েছে আরো কয়েকটি ফ্লাট ও জমি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকা। এছাড়াও তার নামে-বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পদের পাহাড়।
এ ব্যাপারে ভুমি সহকারী মোতাহার হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য বার বার অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে কয়েকজন সাংবাদিককে দিয়ে ফোন করার সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য।
এ ব্যাপারে একটি সাংবাদিক টিম তার গ্রামের বাড়িতে এবং রাজধানীর কিছু এলাকায় তার আরো সম্পদের অনুসন্ধানে রয়েছে। যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা হবে।
(চলবে)