শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিআরটিসির দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান অপসারন: ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অবরুদ্ধ বিআরটিসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান : অবশেষে ন্যাক্কার জনক বিদায় রাজউকের পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের ব্যাপক অভিযোগ বর্তমান চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় কমিশন বাণিজ্য : বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ : সুষ্ঠ তদন্তের দাবী স্মৃতিচারণ, আড্ডা আর সাংস্কৃতিক আয়োজনে জমজমাট সিটি ইউনিভার্সিটির ইইই রিইউনিয়ন বিআরটিসির ডিপো ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামানকে ঘিরে বিতর্ক : রাজনৈতিক ছত্রছায়া, গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব নিয়ে প্রশ্নের ঝড় এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি : কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে : দুদকে অভিযোগ বিআরটিসিতে আশরাফুল আলমের শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট : রয়েছে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ বিআরটিসিতে সিন্ডিকেটের দাপট : মফিজ-কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ট্রান্সরেইল লাইটিং ও অমৃক সিংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, দুদকে অভিযোগ দাখিল বাপার ইবিটি কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ পেল ৪৬ হাজার মানুষ

বিআরটিসির দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান অপসারন: ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অবরুদ্ধ বিআরটিসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান : অবশেষে ন্যাক্কার জনক বিদায়

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ Time View

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাকে বদলি করেছে সরকার। একই আদেশে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মীর আহমেদ তারিকুল ওমরকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার বদলির আদেশের পরপরই রাজধানীর মতিঝিলে বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন সংস্থাটির শ্রমিক ও কর্মচারীদের একটি অংশ। তারা বিআরটিসির প্রধান ফটক ও পকেট গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন। এবং আব্দুল লতিফ মোল্লার বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে প্রায় একশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী আটকা পড়েছিলো বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন।

তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন বিআরটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাকিম ভূঞা। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা মূলত চেয়ারম্যানকে কেন্দ্র করে আন্দোলন করছেন। বিআরটিসিতে এটি চিরাচরিত নিয়ম। যখন এ পদে থাকা ব্যক্তির বদলি হয়, তখন শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষমতায় থাকা পক্ষ বিক্ষোভ করে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আটকা পড়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। যাদের অফিস শেষ হয়েছে বা বের হওয়ার প্রয়োজন তারা বের হয়ে গেছেন।

বিআরটিসি চেয়ারম্যানের পিএস আব্দুল মুহাইমিম সজীব বলেন, স্যার ফাইলিংয়ের কাজ করছেন। স্যার তো স্ট্যান্ড রিলিজ। যে সব পেন্ডিং কাজ আছে, আমাদের সমন্বয় সভা আবার রবিবারে আছে। তো ওইগুলোর সব কাজ গুছাচ্ছেন।

আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ও গুলো কিছু না। ও গুলো তেমন কিছু না। যারা আন্দোলন করছেন, তারা আমাদেরই লোক, বাইরের কেউ না। কী বলব আর, কিছু বলার নেই। আসলে শ্রমিক কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান তো। অসুবিধা নেই, যদি সে রকম কিছু হয়ে থাকে, আমি জানাব আপনাকে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আব্দুল লতিফ মোল্লা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। ডিপো ও কর্মকর্তাদের বদলি, দপ্তর সাজসজ্জা, বাণিজ্য মেলা এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে বকেয়া বেতন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান শ্রমিকরা।

বিআরটিসি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার আমলে বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন সময় মতো দেওয়া হচ্ছে না। অনেকের বেতন বকেয়া রয়েছে। আমরা এসবের তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা তার দপ্তর সাজসজ্জার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও ৫৫ লাখ টাকার ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়ও প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ দেখিয়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মহিউদ্দিন খান আরও বলেন, বিভিন্ন ডিপোতে বদলি-বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। চালক, কন্ডাক্টর ও কারিগরসহ শ্রমিকদের বেতন এবং বিভিন্ন ডিপোর বকেয়া পরিশোধ না করে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

তার দাবি, সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সময়ে মাসের প্রথম থেকে পঞ্চম তারিখের মধ্যে নিয়মিত বেতন দেওয়া হলেও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সময়ে বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। অবসর নেওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি।

আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাকে মাথা নিচু করে বের হয়ে গাড়ীতে উঠতে দেখা যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা তার বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে। দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার এটা ন্যাক্কার জনক বিদায় বলে মন্তব্য করেন আন্দোলনকারীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 agamirbangladesh24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin