
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে চীন কি প্রচ্ছন্নভাবে বাংলাদেশকে হুমকি দিচ্ছে কিংবা বাংলাদেশের অপর চাপ প্রয়োগ করছে? এই প্রশ্নটিই এখন কূটনীতিক অঙ্গনের বেশ বড় করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণের ঘটনা এবং আকাশসীমা লঙ্ঘন ঘটনা নতুন করে এ ধরনের প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশের বড় বড় যতগুলো মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তার সবগুলোতেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে চীন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কার বিপর্যয়ের পর সরকারের টনক নড়ে এবং এই সময় থেকেই সরকার বলে আসছে যে, চীনের সঙ্গে বড় ধরনের আর কোনো ঋণচুক্তিতে যাবে না। বর্তমানে যে চুক্তিগুলো আছে সেই চুক্তিগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।।
সাম্প্রতিক সময়ে চীনের অনেক অর্থনৈতিক প্রস্তাব এবং চিত্তাকর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প সরকার নাকচ করে দিয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ সরকার চীনের সঙ্গে একটি নিরাপদ দূরত্ব রাখতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো স্বার্থে। এরকম বাস্তবতায় চীন বাংলাদেশের ব্যাপারে আগ্রাসী হচ্ছে কিনা সে নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই উপমহাদেশে চীনের সবচেয়ে বড় শক্তি জায়গা এখন মিয়ানমার। শ্রীলংকার বিপর্যয়ের পর এই অঞ্চলের দেশগুলো আস্তে আস্তে চীনের কাছ থেকে সরে আসছে। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু মিয়ানমার। সামরিক জান্তারা বিশ্বে নানারকম নিষেধাজ্ঞার মুখে এখন অনেক বেশি চীনের অপর নির্ভরশীল। অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, মিয়ানমার এখন চীনের নতুন উপনিবেশে পরিণত হয়েছে। চীন যেভাবে চাইছে, যেভাবে তাকে পরামর্শ দিয়েছে মিয়ানমার সেভাবেই কাজ করছে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন রকম দেশের নিন্দা প্রতিবাদ সত্ত্বেও মিয়ানমার টিকে আছে। আর তাই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে মিয়ানমারকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চীন করছে কিনা, সেই প্রশ্নটি রয়ে গেছে। কারণ, হঠাৎ করে মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করবে কেন? এই উত্তেজনা সৃষ্টির পেছনে কোনো রকম কারণ নেই।
লক্ষণীয় ব্যাপার যে, রোহিঙ্গাদের যখন জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হয় তখন থেকে বাংলাদেশে অত্যন্ত সহিষ্ণু এবং সংবেদনশীল আচরণ করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছেন এবং এদেরকে ফেরত পাঠানোর জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ বা বড় ধরনের কোনো রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বরং বাংলাদেশ বারবার এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এবং শিষ্টাচার মেনে চলছে। মিয়ানমারের নানারকম উস্কানির পরও বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করছে। কারো সাথে বৈরিতা নয় অমর বাণী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের কূটনীতির দিক-নির্দেশনা হিসেবে দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। কিন্তু মিয়ানমার এখন নতুন করে যখন উত্তেজনা ছড়াচ্ছে তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, এটি কেন করা হচ্ছে? বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক চীনের নতুন করে মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। শ্রীলংকার ঘটনার পর এই উপমহাদেশে চীনের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমে এসেছে। পাকিস্তান চীনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল কিন্তু পাকিস্তান এখন দ্বিতীয় শ্রীলঙ্কা হওয়ার পথে হাবুডুবু খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যদি ভারতের সম্পর্ক গভীর হয় এবং বাংলাদেশ যদি চীনের ব্যাপারে সংযত নীতি গ্রহণ করে তাহলে চীন এই অঞ্চলের আধিপত্য হারাতে পারে। এরকম বাস্তবতা থেকে চীন মিয়ানমারকে ব্যবহার করছে কিনা সেটিও একটি ভেবে দেখার বিষয় বলে অনেকেই মনে করছেন।