
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রাংশের (চেসিস) ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব কারখানায় বাস তৈরি করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। এরই মধ্যে দুটি বাস তৈরির কাজ শেষ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই পরিবহন সংস্থা। প্রথম ধাপে আরও কয়েকটি বাস তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত বাস ডিপোর নবনির্মিত ইয়ার্ড ও প্রধান ফটক উদ্বোধন শেষে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের নিজস্ব কারখানায় তৈরি করা দুটি বাস বিমান বন্দরের শাটল রুটে ব্যবহার করা হবে। বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী ভাইদের জন্য তা বিশেষ সুবিধা হিসেবে থাকবে। ৩০-৪০ জন যাত্রী একটি বাসে ভ্রমণ করতে পারবেন। যাত্রীদের লাগেজ রাখার জন্য বাসে সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম আরো জানান, এই বাস দুটি ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় শাটলভাবে ঘুরতে থাকবে। বিমান বন্দর থেকে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনে যাবে। শিগগিরই মন্ত্রণালয় থেকে উদ্বোধনের দিন নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে বিআরটিসির বহরে যাত্রীবাহী বাস রয়েছে ১ হাজার ৩৫০টি। তা সুইডেন, জাপান, চীন, কোরিয়া ও ভারতের মতো দেশ থেকে কেনা হয়েছে। এখন নতুন করে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসে (সিএনজি) চালিত ৩৫০টি এবং ভারত থেকে ১০০টি বিদ্যুৎ চালিত বাস কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, চেসিস বানানোর সক্ষমতা এখনো আমাদের হয়নি। এই চেসিস বাদ দিয়ে পুরোপুরি একটি গাড়ি বানানোর শত ভাগ সক্ষমতা বিআরটিসির রয়েছে। বিদেশ থেকে চেসিস এনে আমাদের নিজস্ব কারখানায় বাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে আমাদের বাস আমরাই উৎপাদন করতে চাই।
মোঃ তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া গাজীপুরের সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা পুনরায় চালু করা হয়েছে। পুরোনো মেশিনারিজ পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন মেশিনারিজ সরঞ্জাম যুক্ত করে কারখানার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। তা ছাড়া ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানাটিও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এসব কারখানার কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। এতে করে বিআরটিসির নিজস্ব কারখানায়, নিজস্ব কর্মীদের দিয়ে বাস তৈরির সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।