শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিআরটিসির দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান অপসারন: ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অবরুদ্ধ বিআরটিসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান : অবশেষে ন্যাক্কার জনক বিদায় রাজউকের পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের ব্যাপক অভিযোগ বর্তমান চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় কমিশন বাণিজ্য : বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ : সুষ্ঠ তদন্তের দাবী স্মৃতিচারণ, আড্ডা আর সাংস্কৃতিক আয়োজনে জমজমাট সিটি ইউনিভার্সিটির ইইই রিইউনিয়ন বিআরটিসির ডিপো ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামানকে ঘিরে বিতর্ক : রাজনৈতিক ছত্রছায়া, গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব নিয়ে প্রশ্নের ঝড় এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি : কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে : দুদকে অভিযোগ বিআরটিসিতে আশরাফুল আলমের শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট : রয়েছে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ বিআরটিসিতে সিন্ডিকেটের দাপট : মফিজ-কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ট্রান্সরেইল লাইটিং ও অমৃক সিংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, দুদকে অভিযোগ দাখিল বাপার ইবিটি কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ পেল ৪৬ হাজার মানুষ

ডেভেলপার ব্যবসার মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণার সাম্রাজ্য : খিলক্ষেত–নিকুঞ্জে ‘প্রাণের বাংলাদেশ’ সাইনবোর্ডের আড়ালে আব্দুল আল মামুনের লুটপাট কারখানা!

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৪৮ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ রাজধানীর বুকে প্রকাশ্যে চলছে এক ভয়ংকর প্রতারণার কারখানা—ডেভেলপার ব্যবসা ও সংবাদপত্রের সাইনবোর্ডকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল আল মামুন নামের এক কথিত সম্পাদক ও ডেভেলপারের বিরুদ্ধে। খিলক্ষেত–নিকুঞ্জ এলাকায় তার কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র মতে, খিলক্ষেত নিকুঞ্জ, হাউস নং–৮, রোড নং–৮ ঠিকানায় অবস্থান করে আব্দুল আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে ডেভেলপার ব্যবসার নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন। একই ঠিকানায় ‘দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংই ছিল তার মূল অস্ত্র—এমন অভিযোগ একাধিক ভুক্তভোগীর।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাট ও জমি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মামুন লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন। টাকা নেওয়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধ, অফিস তালাবদ্ধ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন—এটাই তার পরিচিত কৌশল।

একাধিক নারী ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, অর্থ আদায়ের পাশাপাশি তাদের মানসিকভাবে চাপে রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। তালিকায় নারী ভিকটিমের সংখ্যা একাধিক, যা এই প্রতারণাকে আরও ভয়াবহ রূপ দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৃত সাংবাদিকদের ঝামেলা থেকে বাঁচতে আব্দুল আল মামুন খুলে বসেন ‘সাংবাদিক তৈরির কারখানা’। টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র দিয়ে গড়ে তোলেন একদল কথিত সাংবাদিক, যারা সংবাদ লেখার যোগ্যতা না থাকলেও চাঁদাবাজি ও ভয় দেখানোতেই পারদর্শী।

অভিযোগ রয়েছে—ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সামাজিকভাবে হেয় করা এই টিমটি ছিল মামুন চক্রের নিয়মিত কার্যক্রম।

খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক হাবিব সরকার স্বাধীন অভিযোগ করেন, তাকে সামাজিকভাবে ধ্বংস করতেই আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগী হাফিজুর রহমান হাফিজ সংঘবদ্ধভাবে মাঠে নামে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করে একাধিক অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হয়।
তিনি বলেন, এটা শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়—এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।

আব্দুল আল মামুনের কুকীর্তি নতুন কিছু নয়। এর আগেও মাছরাঙা টেলিভিশনসহ একাধিক গণমাধ্যমে তার প্রতারণা, ভুয়া সাংবাদিকতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড উঠে এসেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি একটি ধারাবাহিক অপরাধচক্র। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল আল মামুন ইতোমধ্যে ১৩ বার অফিস ও অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। কোথাও তার পরিচয় ফাঁস হলে নতুন এলাকায় গিয়ে নতুন নামে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন।

উত্তরখান এলাকায় ‘মা বাবার দোয়া কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি প্রকল্প দেখিয়ে ৯ তলা ভবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বহু মানুষকে নিঃস্ব করার অভিযোগ রয়েছে। দুইতলার কাজ বন্ধ রেখে গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রতারণামূলক কানামাছি খেলাই ছিল তার মূল কৌশল। স্থানীয়রা তাকে এখন ‘ডেভেলপার নয়—মূর্তিমান আতঙ্ক’ হিসেবেই চেনেন। ভুয়া পরিচয়, সাইনবোর্ড, পত্রিকা আর কথিত সাংবাদিক—সব মিলিয়ে একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তিনি।

সচেতন মহলের প্রশ্ন: কুকর্মের শেষ কোথায়? আর কতদিন ডেভেলপার ও সাংবাদিকতার মুখোশে এই প্রতারণা চলবে? প্রশাসন কি এবার নীরব থাকবে? তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 agamirbangladesh24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin