শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দুদকের অভিযোগের পরিসমাপ্তি, মিলেছে পরিষ্কার রায় : ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন রাজউকের ইমারত পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম পিয়াল তদন্তাধীন মামলা নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ গাজীপুরে এনডিইএ-এর নতুন কমিটি, আহ্বায়ক মেরাজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব মাসনুন নাফি বিআইডব্লিউটিএ নেতা মাজহারের লম্বা হাত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও গড়েছেন সম্পদের পাহাড় : হয়েছেন স্বঘোষিত সভাপতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেম, বিয়ে ও অর্থ আত্মসাৎ : খুলনায় নারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ  যুবলীগ নেতা আবুল হাসান আবারো বেপরোয়া : মতিঝিলে চালাচ্ছে নীরব চাঁদাবাজি অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এম আর এনার্জি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে  জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ : আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা ভাতের হোটেল থেকে ভুমি কর্মকর্তা : মোতাহার হোসেন খান ভুমি সহকারীর দুর্নীতির খতিয়ান : গড়ে তুলেছেন হাজার কোটি টাকার সম্পদ

টাকার বদলে ‘মানুষ’ বন্ধক, মেলে ইয়াবা!

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৬৩৭ Time View

এম নাসির উদ্দীন খান রিপন, কক্সবাজার থেকে ফিরে : অর্থের প্রয়োজনে জমিজমা কিংবা মূল্যবান জিনিসপত্র বন্ধক রাখে মানুষ। বিষয়টি খুবই সাধারণ। কিন্তু এসবের পরিবর্তে যখন বন্ধক রাখা হয় ‘আস্ত মানুষ’, তখন চোখ কপালে উঠবে যে কারোর। অবিশ্বাস্য হলেও ঘটেছে এমনই ঘটনা। দেশে ইয়াবা আনতে মিয়ানমারে মানুষ বন্ধক রাখছেন কক্সবাজারের মাদক ব্যবসায়ীরা। আর যতদিন ইয়াবার চালানের টাকা শোধ না হয়, ততদিন সেখানে টর্চারসেলে বন্দির ওপর চলে নির্যাতন।

ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০ সালের শেষের দিকে মানুষ বন্ধক রেখে ইয়াবা লেনদেনের প্রথা চালু করেন আলোচিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন। পাঁচদিন আগে অস্ত্র-ইয়াবাসহ নবী হোসেন গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। গ্রেফতারের পর মানুষ বন্ধক রেখে ইয়াবার কারবার ও টাকা না পেলে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করেন তারা।

মিয়ানমারের টর্চারসেলে নির্যাতনের শিকার হওয়াদের একজন নুরুল আমিন। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের চকিদারপাড়া এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। তাকে বন্ধক রেখে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে আসেন এপারের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। পরে টাকা শোধ না করে বন্ধ করে দেন যোগাযোগও। ফলে নুরুল আমিনের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। নুরুল আমিনকে বন্ধক রেখে ৫০ হাজার ইয়াবা নিয়ে আসেন শহিদুল্লাহ ও মনসুর। যার মূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকা। কিন্তু এখনো সেই টাকা দিতে না পারায় সেখানে আটকে আছেন নুরুল আমিন।নুরুল আমিন পেশায় জেলে। স্থানীয় আলী হোসেনের ট্রলারে কাজ করতেন তিনি। গত ২৭ জুলাই জাল কেনার কথা বলে নুরুল আমিনকে টেকনাফ নিয়ে যান আলী হোসেনের ছেলে শহিদুল্লাহ ও তার সহযোগী মনছুর। সেখান থেকে মিয়ানমারের আকিয়াব শহরের কাছে যান তারা। এরপর সেখানেই নুরুল আমিনকে রেখে উধাও হন দুজন।

নুরুল আমিনের স্বজনদের দাবি, টাকা দিয়ে নুরুল আমিনকে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন শহিদুল্লাহ ও মনছুর। কিন্তু তারা তা না করায় জীবন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন নুরুল আমিন। তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শহিদুল্লাহ ও মনছুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি মিয়ানমারে বন্ধক রাখা আরো একজনের নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যেটিতে দেখা যাচ্ছে- নির্ধারিত সময়ে টাকা শোধ না করায় শিকলে বেঁধে রড দিয়ে পেটানো হচ্ছে তাকে। নির্যাতনের শিকার ঐ ব্যক্তির নাম আলী হোসেন। তিনিও বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা। নির্যাতনের ভিডিওটি তার পরিবারের কাছে পাঠান মাদক ব্যবসায়ীরা। এর আগে, চলতি বছরের মার্চে নুরুল ইসলামকে মিয়ানমারে বন্ধক রেখে ১০ লাখ টাকার ইয়াবা আনার অভিযোগ ওঠে শাহাবুদ্দীন, আব্দুল খলিল ও মহেষখালী উপজেলার আবছারের বিরুদ্ধে। নুরুল ইসলাম হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কুতুবদিয়া পাড়ার নুরুল আমিনের ছেলে। আর শাহাবুদ্দীন ও আব্দুল খলিল একই এলাকার বাসিন্দা। নুরুল আমিনকেও নির্যাতনের একটি ভিডিও প্রচার হলে দ্রুত টাকা শোধ করে তাকে ছাড়িয়ে আনেন বন্ধকদাতারা।

মানুষ বন্ধক রেখে ইয়াবা ব্যবসার বিষয়ে কথা বললে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, একটি নির্যাতনের ভিডিওর বিষয়ে শুনেছি। কিন্তু কেউ অভিযোগ করেননি। তবু ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, শুক্রবার রাতে উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে নবী হোসেন গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। তাদের কাছ থেকে চার লাখ ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি একে-২২ রাইফেল, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি এসবিবিএল ও ১৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে অভিযান চালিয়ে নবী হোসেন গ্রুপের এসব সদস্যকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান- নবী হোসেনের ডেরায় মানুষ বন্ধক রেখে ইয়াবার ব্যবসা হয়। তার ডেরায় অনেকেই বন্ধক রয়েছেন। এরই মধ্যে টাকা শোধ করতে না পারায় বন্ধক থাকা অনেক ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন নবী গ্রুপের সদস্যরা। নবী হোসেনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 agamirbangladesh24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin